Facebook Reels-এর জন্য কপিরাইট-মুক্ত ভিডিও ডাউনলোড করার সেরা উৎসসমূহ সম্পূর্ণ আর্টিকেল পড়ুন Buy Book!

কেন বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আমি ইসলামী হোক বা অনইসলামী—সব ধরনের রাজনীতি থেকে কিছুটা দূরে থাকতে চাই:

১. বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের রাজনীতি অনেকাংশেই আদর্শের চেয়ে ক্ষমতা-কেন্দ্রিক হয়ে গেছে। ইসলামের নামে রাজনীতি করা দল হোক বা সেক্যুলার দল—অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, নৈতিকতা, সত্যবাদিতা এবং জনগণের কল্যাণের চেয়ে দলীয় স্বার্থই প্রাধান্য পায়। একজন মুসলিম হিসেবে আমি চাই আমার জীবন সত্য, ন্যায় ও আমানতের উপর প্রতিষ্ঠিত হোক—কিন্তু রাজনীতির মাঠে এগুলো সবসময় রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়ে।
২. ফিতনা ও বিভাজন একটি বড় কারণ। ইসলাম আমাদের উম্মাহকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে শিক্ষা দেয়, কিন্তু বাস্তবে রাজনীতি মানুষকে দলে দলে ভাগ করে দেয়। একই মসজিদের মুসল্লিরাও ভিন্ন রাজনৈতিক মতের কারণে একে অপরের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। এতে হৃদয়ে বিদ্বেষ সৃষ্টি হয়, যা ইসলামের ভ্রাতৃত্ববোধের পরিপন্থী।
৩. অনেক ক্ষেত্রে ইসলামী রাজনীতিও আদর্শিকভাবে বিশুদ্ধ থাকে না। ইসলামের নাম ব্যবহার করা হলেও কাজকর্মে সেই আদর্শের প্রতিফলন কম দেখা যায়। যেমন—ইসলামবিরোধী ইস্যুতে সাংগঠনিক সিদ্ধান্তে অস্পষ্টতা, কখনো মৌন সমর্থন, অথবা সঠিক অবস্থান নিতে ব্যর্থতা। পাশাপাশি ক্ষমতার লড়াই, অপবাদ, হিংসা, এমনকি দুর্নীতির অভিযোগও থাকে। ফলে সাধারণ মুসলিম হিসেবে আমি দ্বিধায় পড়ি—এটা কি সত্যিই ইসলামের সেবা, নাকি শুধু রাজনীতির আরেকটি রূপ?
৪. নিজের ঈমান ও আমল রক্ষা করা জরুরি। রাজনীতিতে জড়ালে অনেক সময় এমন পরিস্থিতি আসে, যেখানে মিথ্যা বলা, অপপ্রচার করা বা অন্যায়ের সাথে আপস করতে হয়। আমি যদি দেখি যে আমার দ্বীন ঠিক রাখা কঠিন হয়ে যাচ্ছে, তাহলে দূরে থাকাই নিরাপদ মনে করি।
৫. দেশের জন্য ভালো কিছু করার আরও অনেক পথ আছে। শিক্ষা, দাওয়াহ, সামাজিক কাজ—এসবের মাধ্যমে আমি সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারি, যা সরাসরি রাজনীতিতে না গিয়েও সম্ভব।
৬. রাজনীতি সময়সাপেক্ষ। এতে জড়ালে পড়াশোনা, ব্যবসা, চাকরি ও পরিবার—সবকিছুর উপর প্রভাব পড়ে। অনেক সময় ভারসাম্য রক্ষা করা কঠিন হয়ে যায়। আমি মনে করি, এই সময়টা নিজের উন্নয়ন বা হালাল জীবিকা গঠনে ব্যয় করাই বেশি উপকারী।
৭. বর্তমান রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে অপবাদ, ট্রল ও সোশ্যাল মিডিয়া আক্রমণ খুবই সাধারণ। এতে মানসিক চাপ, উদ্বেগ, এমনকি সম্পর্কের অবনতি ঘটে। ভিন্ন রাজনৈতিক মতের কারণে বন্ধু, আত্মীয়—এমনকি পরিবারের মধ্যেও দূরত্ব তৈরি হয়।
তবে আমি ছাত্রজীবনে একটি ইসলামী সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ত ছিলাম, যা আমার পরিবারের মতো ছিল। তারা আমাকে নৈতিকতা, সততা এবং একজন ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে অনেক সাহায্য করেছে। তাদের সংস্পর্শে এসে আমি নিজেকে আরও উন্নত করতে পেরেছি।

কিন্তু জীবনের এই পর্যায়ে এসে আমি মনে করি—আমার জন্য রাজনীতিতে সক্রিয় থাকা প্রয়োজন নয়। ব্যক্তিগত জীবনে ঝামেলামুক্ত থাকা জরুরি, যাতে মানসিকভাবে হালকা ও প্রফুল্ল থাকা যায়।
শেষ কথা (গুরুত্বপূর্ণ):

আমার এই সিদ্ধান্ত একান্তই ব্যক্তিগত এবং আমার মানসিক প্রশান্তির জন্য নেওয়া। এতে কোনো রাজনৈতিক সংগঠন, কোনো শক্তি কিংবা কোনো ব্যক্তি দায়ী নয়। এটি কোনো রাগ বা ক্ষোভ থেকেও নয়। তাই আমার এই পোস্টকে কেন্দ্র করে আমার পূর্বে সমর্থিত কোনো সংগঠনকে দোষারোপ করবেন না।

আমি কখনোই কোনো রাজনৈতিক দলের আনুষ্ঠানিক কর্মী ছিলাম না। শুধু একটি সংগঠনের কর্মকাণ্ড পছন্দ করতাম এবং তাদের পক্ষে লেখালেখি করতাম। কোনো দল বা ব্যক্তির প্রতি আমার কোনো শত্রুতা বা বিশেষ মিত্রতাও নেই—এখনও নেই।

আমি সকলের সাথে মিলেমিশে থাকতে চাই। সব দলের ভালো কাজকে সমর্থন করবো, আর খারাপ কাজের সমালোচনা করবো।সবশেষে সকলের নিকট দোয়া চাই। একজন প্রকৃত ঈমানদার আল্লাহর গোলাম হিসেবে যেন আল্লার কাছে যেতে পারি।
মা'আসসালাম।
১০/০৪/২০২৬ ইং

إرسال تعليق

Cookie Consent
আমাদের সাইটকে আরো উন্নত করতে প্রয়োজনে আপনার ব্রাউজার ডাটা ব্যবহার করি । কিন্তু আমরা আপনার ইমেইল ও পাসওয়ার্ড সংগ্রহ করি না । আপনার ব্যক্তিগত ডাটা আমাদের কাছে সম্পূর্ন নিরাপদ । আমাদের সম্পর্কে আরো বিস্তারিত জানতে
Oops!
It seems there is something wrong with your internet connection. Please connect to the internet and start browsing again.
AdBlock Detected!
We have detected that you are using adblocking plugin in your browser.
The revenue we earn by the advertisements is used to manage this website, we request you to whitelist our website in your adblocking plugin.
Site is Blocked
Sorry! This site is not available in your country.
আক্তারুজ্জামান মোল্লা আসসালামু আলাইকুম
আমার ব্লগে স্বাগতম
Type here...
-->