Facebook Reels-এর জন্য কপিরাইট-মুক্ত ভিডিও ডাউনলোড করার সেরা উৎসসমূহ সম্পূর্ণ আর্টিকেল পড়ুন Buy Book!

স্মৃতিময় শৈশবের সেই সব দিন গুলো-পর্ব-১

আমরা যখন নবম শ্রেণিতে উঠি সেই বছর প্রথম আমাদের স্কুলে অপশনাল সাবজেক্ট হিসেবে কম্পিউটার চালো হয়। আমার পছন্দের সাবজেক্ট কম্পিউটার নিয়ে পড়ব স্বীদ্ধান্ত নেই। লেখাপড়ায় দূর্বল হলেও কোন ক্লাসে ২ বার থাকতে হয়নি। কিন্তু নবম শ্রেণিতে রেজিষ্ট্রেশনে আমার অপশনাল সাবজেক্ট আসে কৃষি শিক্ষা এজন্য আমি আবার নবম শ্রেণিতে থেকে যাই এবং কম্পিউটার সাবজেক্ট নিয়ে পরের বছর দশম শ্রেণিতে উঠি।

akter molla

মাধ্যমিকে পড়ার সময় আমার বন্ধুরা নোকিয়া ফোন চালাত সম্ভবত, কিন্তু আমার কোন ফোন ছিলো না। আমি ফোন ব্যবহার করি ইন্টারে ভর্তির পর থেকে জীবনের প্রথম ফোন নোকিয়া বাটন ফোন সম্ভবত ১২০৮ কালার ডিসপ্লে।

তখন ইন্টারনেট ব্যবহার করতাম পিসিতে সিটিসেল মডেম দিয়ে। এরপর বাংলালায়ন ওয়াইম্যাক্স ব্যবহার করেছি। তারপর গ্রামীণফোনের মডেম বাজারে আসলে দীর্ঘদিন সেই মডেমে গ্রামীণফোন, বাংলালিংক ও রবি দিয়ে নেট চালাতাম। গ্রামীণ ফোনের আর বাংলালিংক এর একটা নাইট প্যাকেজ ছিলো রাত ১০ টা থেকে সকাল ৮ বা ১০ হবে। আমি ঐ প্যাকেজটা অনেক দিন চালিয়েছিলাম। অনেক রাত এমন গেছে কোন সফটওয়্যার বা ফাইল ডাউনলোড দিয়ে ঘুমিয়ে যেতাম এরপর ফজরের আজানের সময় উঠে দেখতাম কখনো কমপ্লিট আবার কখনো ৮০/৯০% হয়েছে। স্লো নেটের কারণে কত কিছু যে ডাউনলোড হতে গিয়ে ফেইল মেরে বন্ধ হয়ে গেছে হিসাব ছাড়া।

akter molla


সেই সময়ে এই ফেসবুক আইডি খুলেছিলাম, সামু ব্লগে লেখালেখি করা শুরু করি, আমার পার্সোনাল ব্লগ আমার পার্সোনাল ব্লগ এটা খুলি। কলেজে গিয়ে মাঝে মাঝে সাইবার ক্যাফেতে ৩০ টাকা ঘন্টা সম্ভবত নেট চালাতাম। এরপর এক সময় গ্রামীণফোনের কাস্টমার কেয়ার চালো হলে বিআরটিসি মার্কেটে ওখানে ফ্রী নেট চালানোর জন্য একটা পিসি ছিলো। কলেজ থেকে গিয়ে ওখানে ফ্রী নেট চালাতাম জিমেইল চেক করতাম।

এরপর নকিয়া এন সিরিজের ফোন N72 চালিয়েছি। নকিয়া সহ তখন ইন্টারনেট সাপোর্ট করে এমন ফোনে যখন এন্ড্রয়েড আসেনি তখন জাভা ও সিমবিয়ান এপস চলতো। যেহেতু আমাদের দোকান ছিলো আমার কালেকশনে তখন অনেক সিমবিয়ান সফটওয়্যার ছিলো। ইনডেক্স থেকে নতুন নতুন সফটওয়্যার ও গেইমস এর সিডি কিনে আনতাম। তখন সিমবিয়ান ও জাভা ফোনের ওয়ালপেপার এপস, ঘড়ি এপস ও থিম অনেক জনপ্রিয় ছিলো।



akter molla -samu

🎮 কৈশোরের স্মৃতি: গেমস, ইন্টারনেট আর শেখার অদম্য আগ্রহ

কৈশোরের অনেকটা সময় রাত-দিন পিসিতে গ্রান্ড থিফ অটো বাইক সিটি, নিড ফর স্প্রিড, এয়ার এট্রাক, মোস্তফা গেইম খেলে পার হতো। নরসিংদী রেলস্টেশনের কাছে গেইম খেলার দোকান ছিলো মামা অনেক সময় ওখানে গিয়ে সম্ভবত ৫ টাকা দিয়ে মোস্তফা গেইম খেলতো আমি ওখানে অবশ্য খেলতে পারিনি ওটা আমার কাছে জটিল লাগতো। এরপর কম্পিউটারে মোস্তফা সহ অনেক গেইম খেলার একটা সিডি ছিলো এটা এই সিডি দিয়ে ডিভিডি প্লেয়ারের মাধ্যমে টিভিতেও গেইম খেলা যেতো। এই গেইম খেলার জন্য ডজনে ডজনে গেইম স্টিক আনতো মামা। আমিও স্টিক দিয়ে টিভিতে এরপর পিসিতে গেইম খেলতাম।

ভেলানগর পাবলিক লাইব্রেরিতে গিয়ে বেশির ভাগ সময় ইন্টারনেট মাস্টারিং একটা বই ছিলো ওটা এবং কম্পিউটার ট্রাবলশুটিং ও সমাধান নামে সম্ভবত একটা বই ছিলো ওটা ঘাটাঘাটি করতাম। পত্রিকার টেকনোলজি পেজ নিয়মিত পড়তাম। অনেকবার মামার কম্পিউটার নষ্ট করে ফেলেছি। নিজে নিজে চেষ্টা করে ঠিকও করেছি। না পাড়লে মামাতো ভাই আর মামার এক বন্ধু ছিলো ওনাকে এনে ঠিক করতাম। ইনডেক্স প্লাজা থেকে সেই সময়ে কিছু দিন পরপর ৩/৪ শ টাকা দিয়ে উইন্ডোজ ২০০৩/৭ ভিস্তা-৭ সেটআপ দিতাম।

এরপর দেশে ২জি থেকে আপডেট ৩জি আসে। নরসিংদী সরকারি কলেজে ইন্টারে পড়ার সময় কলেজের কম্পিউটার ল্যাবে ৩ মাস মেয়াদি কোর্স করাতো ওটাতে ভর্তি হয়ে নিয়মিত ক্লাস করি। নিজের নাম ঠিকানা নিজের হাতে লিখে ঐ ল্যাব থেকে জীবনের প্রথম প্রিন্ট বের করি স্মৃতি করে রাখার জন্য সেই কাগজটা আমার ফাইলে অনেক বছর রেখে দিয়েছিলাম।

কলেজে কোর্স করার সময় থেকে টাইপিং দক্ষতা অর্জনের জন্য নিজে নিজে পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা টাইপ করি। তখন টাইপিং শেখার জন্য টাইপিং মাস্টার আর বিজয় টাইপিং টিউটর ২ টা জনপ্রিয় সফটওয়্যার ছিলো আমার নিত্য দিনের সময় কাটানোর মাধ্যম। ফলে ২ ভাষায় টাইপিং দক্ষতা অর্জন করে ফেলি। এরপর ফটোশপ, এক্সেল যেগুলো প্রফেশনাল ক্যারিয়ারের জন্য দরকার সেগুলো শিখি। তখন বিয়ে শাদি ও বিভিন্ন ইভেন্টে ভিডিওগ্রাফি খুব চাহিদা ছিলো। যদিও ভিডিওগ্রাফিতে দক্ষতা অর্জন করতে পারিনি কিন্তু কোরাল ভিডিও স্টুডিও সহ আর কয়েকটি ভিডিও এডিটিং সফটওয়্যারে মজা করে এডিটিং করতাম।

বাংলাদেশে তখন বাংলা ব্লগিং খুবই জনপ্রিয় আমি নিয়মিত অনেক গুলো বাংলা ব্লগ সাইটে ভিজিট করতাম। এর মধ্যে পিসিটেক, টেকটিউনস, টিউনার পেজ খুব বেশি জনপ্রিয় ছিলো। তখনই সারাদেশে নাস্তিক ব্লগারদের নিয়ে খুব আলোচনা চলতো এদের বিচরণ ছিলো এমন কয়েকটি ব্লগ হলো ধর্মকারী, সামহোয়্যারইন, সচলায়তন এগুলোতে আসলে কি হয় তা নিয়ে জানার আগ্রহে সামহোয়্যারইন ব্লগে একাউন্ট করি। নাস্তিকদের বিভিন্ন লেখালেখি পড়তে থাকি নিজেও লিখতে থাকি। তখন ধর্মকারী আর সামহোয়্যারইন ব্লগে প্রিয় নবী সঃ, ইসলাম ও আল কোরআন নিয়ে আজেবাজে লেখালেখি চলতো।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Cookie Consent
আমাদের সাইটকে আরো উন্নত করতে প্রয়োজনে আপনার ব্রাউজার ডাটা ব্যবহার করি । কিন্তু আমরা আপনার ইমেইল ও পাসওয়ার্ড সংগ্রহ করি না । আপনার ব্যক্তিগত ডাটা আমাদের কাছে সম্পূর্ন নিরাপদ । আমাদের সম্পর্কে আরো বিস্তারিত জানতে
Oops!
It seems there is something wrong with your internet connection. Please connect to the internet and start browsing again.
AdBlock Detected!
We have detected that you are using adblocking plugin in your browser.
The revenue we earn by the advertisements is used to manage this website, we request you to whitelist our website in your adblocking plugin.
Site is Blocked
Sorry! This site is not available in your country.
আক্তারুজ্জামান মোল্লা আসসালামু আলাইকুম
আমার ব্লগে স্বাগতম
Type here...
-->